ক্যাশ, কুকি, ব্রাউজারের ইনকগনিটো মুড কি?

photo 1590595906931 81f04f0ccebb
main qimg ff83741532b00bf1c19aecf1842aa1db

ক্যাশঃ

ক্যাশ হলো অস্থায়ী ভাবে একটি নির্দিস্ট সময় পর্যন্ত র‍্যামে ডেটা সংরক্ষণ করে রাখা। যেমন ধরুন আপনি গিজবাংলা ব্লগটির কোনো পেজ লোড করলেন যতক্ষণ আপনি সেই পেইজে থাকবেন সেই পেজটি আর দ্বিতীয়বার লোড হবেনা। সার্ভারে আবার ডেটার জন্য রিকোয়েস্ট করলে প্রোগ্রাম শুরুতেই চেক করবে যে এই পেইজ কি ক্যাশ করা আছে কিনা যদি থাকে তাহলে ক্যাশ থেকে লোড করবে আর না থাকলে সার্ভার থেকে লোড করে সাথে সাথে ক্যাশ করবে।

ফেসবুক স্ক্রলিং এর সময় হয়তো দেখবেন আপনি নিচের দিকে নাম্বার সময় নতুন নতুন ডেটা লোড হয় সার্ভার থেকে কিন্তু একবার লোড হয়ে যাওয়া ডেটা উপরে উঠার সময় পুনরায় লোড হয়না সার্ভার থেকে যদিনা ডেটার কোনো পরিবর্তন হয়। এটাই ক্যাশিং।

main qimg b6633486927f7ea32a1cc1bb1aabd46f

কুকিঃ

মনেকরুন আপনি একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন। এবার আপনাকে অপশন দেয়া হলো আপনি ওয়েব কন্টেন্ট গুলো ইংরেজিতে দেখতে চান নাকি বাংলায়? আপনি নির্বাচন করে দিলেন ইংরেজি। এখন সেই ওয়েবসাইট ক্রিয়েটর চাইলে “কুকি” নামক ফাইলের মধ্যে আপনার যাচাইকৃত তথ্যটি রেখে দিতে পারে যেনো পরবর্তিতে আপনি একই ওয়েবসাইটে পুনরায় প্রবেশ করলে আপনাকে আবার ভাষা নির্বাচন করতে না হয় এবং পূর্বে নির্বাচনকৃত ভাষাতেই আপনাকে কন্টেন্ট গুলো দেখাতে পারে। কুকিজ ফাইল গুলো আপনার ডিভাইসের মধ্যেই সঞ্চয় করা হয়। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। তবে এমন অনেক কাজে কুকির ব্যবহার রয়েছে।

এতক্ষণে বুঝে গেছেন এই কুকিজ গুলো আসলে খাওয়ার কুকিজ না আবার মাথায় দেয়ার কুকিজ ও না।

কুকিজে অনেক ধরনের তথ্য জমা করা হয় আপনার সুবিধার জন্য। কুকিজে কি কি রাখা হবে এটা ওয়েবসাইটের ডেভলপাররা নির্ধারন করেন। একটি ওয়েব সাইটের কুকিজ অন্য ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হয়না কিন্তু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি কুকি ফাইল আপনার যেকোনো ধরনের তথ্য /উপাত্ত জমা রাখতে পারে এবং এটা সেই ওয়েবসাইটের ডেভলপারের উপর নির্ভর করে। ডেভলপার চাইলে কুকিগুলো ভালো কাজেও ব্যবহার করতে পারেন বা খারাপ কাজে।

দিন দিন ওয়েবসাইট গুলো উন্নত হওয়ার সাথে সাথে সেগুলো অপটিমাইজ করার জন্য কুকির আকার বড় হতে থাকলো। যেহেতু কুকিজ আপনার ডিভাইসেই থাকে সেহেতু এগুলো ডিভাইস মেমরির অনেক জায়গা দখল করা শুরু করলো। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডেভলপাররা কুকিজ গুলো তাদের সার্ভারে রাখা শুরু করলো, কিন্তু কিভাবে নির্ধারণ করবে যে এগুলো আপনার কুকিজ ? হুম সেজন্য তারা আপনার কুকিজের সাথে একটি ইউনিক আইডি যুক্ত করে দিলো যাতে করে ফাইলগুলো তাদের সার্ভারে থাকলেও সেগুলো যে আপনার ফাইল তা বোঝা যায়।

main qimg 51ed91aa473a21834c0030bec62531af

ইনকোগনিটোঃ

ইনকোগনিটো মোড অন করলে ব্রাউজার কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকে যেমন আপনার আইপি ট্র্যাক করা।(সব ক্ষেত্রে না), কুকিজ সেইভ করা, হিস্ট্রি সেইভ করা, ফর্ম ডেটা সেইভ করা ইত্যাদি। মূলত ট্র্যাক না রাখার কাজটা আপনার কম্পিউটারেই হয়। সার্ভার সাইডে এর কোনো প্রভাব পড়েনা।

ইনকোগনিটো ব্রাউজার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফিচার দিয়ে থাকে। অনেক ব্রাউজারে আইপি পরিবর্তন করা হয়না তাই আইএসপি চাইলে সব কিছুই দেখতে পারবে তাছাড়া আপনি কোন কোন সাইট ভিজিট করেছেন সেগুলোও দেখা যাবে।

ইনকোগনিটো মোডের আরো কিছু সমস্যা আছে যেমন আপনি ভাইরাস / ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করার সময় আপনাকে কোনো রকম সতর্ক বার্তা দিবেনা। ফলে আপনি ভুলে এসব ইন্সটল করে ফেলতে পারেন।

সুতরাং বলা যায় ইনকোগনিটো মোড ব্যবহার করে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়না। আপনি যদি আপনার গোপনীয়তা পুরোপুরি রক্ষা করতে চান তাহলে ভিপিএন ব্যবহার করুন। ফ্রি ভিপিএন ব্যবহার করলেও কিছুটা রিস্ক থেকেই যায়। তাই সম্ভব হলে পেইড ভিপিএন ব্যবহার করুন।

এরপরও যদি কোনো প্রকার প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

ইমেজঃ ইন্টারনেট

রাসেল হোসেন
ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজও করে থাকি, নতুন নতুন জিনিস শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড বই পড়ি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।